উন্নয়নে জনঅংশগ্রহণ – জনস্বার্থে উন্নয়ন ২০১৮

বাংলাদেশ ইতোমধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ হিসাবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে এবং ‘উন্নয়নশীল’ দেশ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত হয়েছে। এ বাস্তবতা আমাদের দেশের জন্য একদিকে সুযোগ অন্যদিকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সার্বজনীন প্রবৃদ্ধি অর্জনে কৌশল নির্ধারণ এবং ক্রমবর্ধমান বৈষম্য হ্রাসে যথাযথ রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করা। বরাবরের মতো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থানসহ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও অন্যান্য গ্রামীণ ও নগর পরিসেবায় বাজেট বৃদ্ধি এবারো অন্যতম বাজেট এজেন্ডা হিসেবে আলোচিত। জাতীয় নির্বাচনের বছর হওয়ায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটের রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য ও গুনগত মান নাগরিক সমাজের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

উল্লেখ্য প্রতিবছর জাতীয় বাজেটের আকার আনুক্রমিক হারে বড় হচ্ছে। কিন্তু ব্যয়ের গুণগত মান ও বাজেট বাস্তবায়নের দক্ষতার অভাব এখনো একটা বড় সমস্যা। পাশাপাশি ফাস্ট ট্রাাক প্রকল্পে অগ্রাধিকারের ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষিসহ মৌলিক সেবাখাতের বাজেট আরো সংকুচিত হবে, নাকি এসব খাতে নতুন অর্থায়ন হবে সে বিষয়টি আলোচনার দাবি রাখে। এদিকে জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন স্তরে নির্বাচিত স্থানীয় সরকার থাকার পরও স্থানীয় সরকারে আর্থিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এখনো সীমিত কিছু প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ। অথচ বাজেট বিকেন্দ্রীকরণের মধ্যদিয়ে স্থানীয় সরকারের কাছে আরো বেশি কিছু দায়িত্ব অর্পণ করা গেলে জাতীয় বাজেটের গুণগত মান পাবে নিঃসন্দেহে।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শ্রম ও কর্মসংস্থান, নারী, দলিত, আদিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন বাজেটসহ জাতীয় পরিকল্পনায় অংশভাগিদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ও বাজেটের বিকেন্দ্রীকরণ কাঠামো এবং এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালনের বিষয়গুলি বিস্তারিত পরিসরে আলোচনায় আসা দরকার। সে লক্ষ্যে গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন, জাতীয় পরিকল্পনা ও বাজেট সম্পর্কিত সংসদীয় ককাস এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অন বাজেট এন্ড পলিসি যৌথভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল, পেশা ও বৈশিষ্ট্যের মানুষের অংশগ্রহণে ৪র্থ বারের মতো ‘জন-বাজেট সংসদ’ আয়োজন করছে।

জনবাজেট সংসদ সামনে রেখে জাতীয় বাজেটে সরকার অত্যাবশ্যকীয় সেবাখাতগুলোকে কীভাবে দেখে, জনগণের জীবনমান পরিবর্তন ও দারিদ্র্য বিমোচনে কী ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করছে তা নিরীক্ষা ও জনপ্রস্তাবনাসমূহ নীতি নির্ধারকদের সামনে তুলে ধরার লক্ষ্যে খাতভিত্তিক বাজেট বিশ্লেষণসমূহ এই পুস্তিকায় তুলে ধরা হলো।

আশা করছি, প্রকাশনার বিশ্লেষণপত্র এবং প্রস্তাবনাগুলো আগামি সময়ে জনঅংশগ্রহণমূলক বাজেট প্রণয়ন ও ন্যায্য উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে ভূমিকা রাখবে।